• বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
  • English Version

এভারেস্টের হিমবাহ বরফ ৮০ গুণ দ্রুত গলে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৬৪ ফেসবুক শেয়ার
আপডেট সময় : শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
Everest news

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতি দ্রুত গলে যাচ্ছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের হিমবাহ। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় ৮০ গুণ দ্রুত গলছে এই সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের হিমবাহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এভারেস্টের যে হিমবাহ তৈরি হতে সময় লেগেছে ২ হাজার বছর, তা গলে যাচ্ছে ২৫ বছরেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেইনের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, এভারেস্ট থেকে এই ২৫ বছরে ১৮০ ফুটেরও বেশি হিমবাহ গলে গেছে। এ অবস্থাকে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে সতর্ক করেছেন তারা।

ওই গবেষণাপত্রের বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এভারেস্ট চূড়ায় এভাবে হিমবাহ গলে যাওয়া বড় ধরনের বিপর্যয়ের সংকেত। বিশ্বের ১৬০ কোটি মানুষের খাবার পানি, সেচের পানি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের স্রোত সব ওই হিমবাহ গলা পানি থেকেই আসে।

এর ফলে এশিয়ায় ১০০ কোটির বেশি মানুষের সুপেয় পানি, খাবার ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

গবেষকরা আরো বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়া ছাড়াও পরিবেশ রক্ষাকারী বরফে ঢাকা পৃষ্ঠও নষ্ট হচ্ছে।

২০১৯ সালে বিজ্ঞানী ও পর্বতারোহীদের একটি দল সাউথ কোল হিমবাহে যান, তাদের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব মেইনের ছয়জন ছিলেন। একটি ১০ মিটার দীর্ঘ বরফ খণ্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তারা।

তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য এরপর বিশ্বের উচ্চতম স্থানে দুটি স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশনও তারা স্থাপন করেন। মানুষের নাগালের সবচেয়ে দূরে থাকা হিমবাহ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেছেন তারা।

গবেষকরা বলছেন, মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে পড়ছে এবং এটা যে বরফাচ্ছাদিত পৃষ্ঠের ভারসাম্য নষ্ট করছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত।

হিমবাহের বরফ একবার উন্মুক্ত হয়ে পড়লে সেখান থেকে ৫৫ মিটার উঁচু বরফের মজুদ মাত্র ২৫ বছরেই গলে যায়। গবেষকরা বলছেন, ওই হিমবাচের বরফ সম্ভবত ১৯৫০ এর দশক থেকে গলতে শুরু করেছে, কিন্তু ১৯৯০ এর পর তা অতি দ্রুত গলছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, হিমবাহের এই বরফ গলার প্রভাবে আর্দ্রতার মাত্রা এবং ঝড়ো হাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। ওই হিমবাহের বরফ গলা পানির ওপর যে জনগোষ্ঠী নির্ভরশীল, তাদের টিকে থাকাও ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর