• শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • English Version

কয়েক জন দুষ্ট লোকের জন্য শেয়ারবাজারে যত সমস্যা: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বিজনেস ডেস্ক / ৪০ ফেসবুক শেয়ার
আপডেট সময় : বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
bd business news

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, শেয়ারবাজারে ১০০ জনের মধ্যে ৫ জন দুষ্ট লোক রয়েছে। এই গুটি কয়েক দুষ্ট লোক নিয়েই যত সমস্যা। তাদের জন্য ৯৫ জনের সমস্যা হতে দেওয়া যাবে না।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

অনুষ্ঠানের দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএসই প্রথম বারের মতো এই ধরনের ভিন্ন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজার হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী অর্থ সংগ্রহের জায়গা। যেখান থেকে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজন মতো অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। আর ব্যাংক হচ্ছে স্বল্প মেয়াদী ঋণের জায়গা। যেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ি অর্থ পেতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে করপোরেট কালচারের মজাই আলাদা। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মত এত বড় সম্মানের জায়গা আর কোথাও নেই। সেজন্য করপোরেট গ্রাহকদের শেয়ারবাজারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যবসায়ীদের আমরা জোরপূর্বক খেলাপি বানাচ্ছি। তিনি বলেন, পৃথিবীতে ভাগ্যবান লোক ছাড়া খুব কম লোকই নিয়মিতভাবে কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন। এটা সম্ভবই না। সুতরাং, আমরা মানুষকে ডিফল্ডার বানিয়ে ফেলছি। আজকে ব্যাং          কের মন্দ ঋণ নিয়ে যে কথা হয়, এখানে সবাই কিন্তু ঋণ নিয়ে পালিয়ে যায়নি। তাদেরকে আমরা বাধ্য করেছি ডিফল্ডার হতে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর আর কত ঋণের চাপ দিবেন? এটা তো ব্যাংকের জন্য ডাবল ঝামেলা। ঝামেলা এই কারণে যে, ব্যাংকগুলো যদি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিয়ে ফেলে উনারা কীভাবে তারল্য ম্যানেজ করবে? ব্যাংকগুলো এফডিআর করে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য আর ঋণ দিচ্ছেন ১০ বছরের জন্য।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আপনার কাছে যদি ১০০ টাকার থাকে তার মধ্যে ৬০ টাকা ১০ কিংবা ১৫ বছরের জন্য দিয়ে দিলেন, এই সময়ে মধ্যে ‍যদি এই টাকা তুলতে চায়, আপনি (ব্যাংক) এই টাকা কোথা থেকে দেবেন? যে ব্যবসায়ী ১০-১৫ বছর মেয়াদী ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন তিনি তো বিপদে পড়ছেন। কোন মানুষ, ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ঋণ দিতে পারবে? বলতে পারবে যে ১০ বছরে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার খুবই দয়ালু, সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। তারপরও আজ মন্দ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। আজকে যদি বলা হয়, রিশিডিউলিং জীবনে একবারের বেশি দেওয়া হবে না। অথবা ৫ বছরের বেশি একবার যাবে না। তাহলে কোথায় যাবে নন-পারফর্মিং লোন। ব্যাংকিং সেক্টর কলাপস (ধস) হয়ে যাবে। এই জিনিসটিকে নিয়ে যে আমরা কি ঝুঁকি নিয়ে এগোচ্ছি। কত বছর যাবত করছি, এভাবে আর কত দিন যাবত চলবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শেয়ারবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। শেয়ারবাজারকে অর্থ যোগানের নির্ভরযোগ্য জায়গায় রুপান্তর করতে চাই। দীর্ঘমেয়াদী অর্থ যোগানের জন্য আমরা শেয়ারবাজারে হরেক রকম পণ্য নিয়ে আসছি।

আমাদের বড় মনের হতে হবে উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, অনেকে সমালোচনা করেন যে, অনেক আইপিও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, শেয়ারবাজার ওভার ভ্যালুড হচ্ছে, ইনডেক্স বাড়ছে। এতো বড় বাজার হওয়া উচিৎ না। আমরা যদি আশে পাশের দেশের সাথে তুলনা করি তবে দেখতে পাব আমরা কোথায় আছি। তারপরও আমরা মনে করি, এটা বেশি হয়ে গেছে, ওভারলোড হয়ে গেছে। সব কিছুতেই আমরা হীনমন্নতা বোধ করি। এটা ঠিক নয়, আমাদের মনকে বড় করতে হবে। মনকে যদি বড় না করি, দেশের অর্থনীতির বড় হচ্ছে- সেই সঙ্গে শেয়ারবাজারকে যদি এগিয়ে নিতে না পারি, তাহলে তো এই দেশের উন্নতি হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর