• বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • English Version

পুঁজিবাজার নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বসছেন প্রধানমন্ত্রী

বিজনেস ডেস্ক / ৬৭ ফেসবুক শেয়ার
আপডেট সময় : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১
bd national news,
ছবি: ফোকাস বাংলা

দেশের পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতপার্থক্য নিরসনে এই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে শিগগিরই বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী সপ্তাহের যেকোনো কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও জানা গেছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। বিদ্যমান বিনিয়োগসীমা নিয়ে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিরি মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে এই বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চলমান মতপার্থক্য দূর করতে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তলিুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শীর্ষ চার কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ওই বৈঠক থেকে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (২০১৩ সালে সংশোধিত)-এর ২৬ এর (ক) ধারার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার জারির মাধ্যমে বিনিয়োগসীমার প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করা যায় কি-না তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এই ধারায় পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগসীমা বাজারদর ধরে নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু এর ফলে বাজার অস্থির হয়ে উঠছে বলে বিএসইসির পক্ষ থেকে তা সংশোধনের দাবি করে আসছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বিএসইসি শেয়ারের ক্রয়মূল্য ধরে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করার দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। একই সঙ্গে বিনিয়োগসীমা থেকে বন্ডের হিসাব বাদ দেওয়ারও দাবি করে আসছে বিএসইসি।

এই আইনের আওতায় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইকুইটির ওপর ভিত্তি ধরে বিনিয়োগসীমা ধার্য করা হয়েছে। ইকুইটি হলো কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন, মুনাফা বা ফ্রি রিজার্ভের যোগফল। এই ইকুইটির ২৫ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের শেয়ারের বাজার দরকে বিবেচনায় নিতে হয়। শেয়ারের এই দর ধরে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ পদ্ধতির কারণেই বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে বিএসইসি।

বিদ্যমান আইন অনুসরণ করার ফলে হরহামেশা ব্যাংকগুলো বিনিয়োগসীমা লঙ্ঘন করছে। আর সেকারণে প্রায়ই জরিমানা গুণতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে শেয়ার বিক্রির চাপ। তাতে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এই নিয়ম বদলানোর জন্য সুপারিশ করে আসছে বিএসইসি। এ নিয়ে দুটি সংস্থার মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির কারণে।

এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসার পর অস্থির শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কট তীব্র হয়ে ওঠে। আর এ মতপার্থক্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। আর এজন্য সবকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতামূলক আচরণ দরকার। শেয়ারের ক্রয়মূল্য ধরে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের বিষয়ে প্রয়োজনে আইনের সংশোধনও দরকার। সমাধানের জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হবো।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর