আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এ রায়ে বলা হয়, একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হলে নতুন করে ভর্তি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না।
এর আগে গত ২৫
জানুয়ারি পুনঃভর্তি ফি বাতিলের দাবিতে
হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের
করে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ আইন ও অধিকার
এইড। রিটে অভিযোগ করা
হয়, বছরের পর বছর ধরে
পুনঃভর্তি ফি আদায়ের মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের ওপর নীরব ও
ভয়াবহ আর্থিক শোষণ চালানো হচ্ছে।
রিট
দায়েরকারী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলী আসগর ইমন
সাংবাদিকদের বলেন, একই প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া
শিক্ষার্থীদের এক শ্রেণি থেকে
আরেক শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় নতুন করে
ভর্তি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা
হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম
কার্যত একটি ‘পণ্যে’ পরিণত হয়েছে এবং অভিভাবকরা হয়ে
পড়েছেন ‘জিম্মি গ্রাহক’। মধ্যবিত্ত ও
নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে গিয়ে
চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে এবং অনেক
ক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি
আরও জানান, সরকারিভাবেই এই অনিয়ম নিষিদ্ধ
করা হয়েছে। গত নভেম্বরে শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের জারি করা বেসরকারি
স্কুল ও স্কুল অ্যান্ড
কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি
থেকে অন্য শ্রেণিতে ভর্তির
ক্ষেত্রে সেশন চার্জ নেওয়া
যাবে। তবে পুনঃভর্তি ফি
নেওয়া যাবে না। পুনঃভর্তির
নামে আলাদা ফি আদায় সম্পূর্ণ
অবৈধ এ কথা সরকারের
সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায় থেকেই স্বীকৃত।
তবে
ইমন অভিযোগ করেন, এই নির্দেশনা বাস্তবে
কার্যকর হচ্ছে না। সারাদেশে হাজার
হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে এই প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন
করছে। শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা
অধিদপ্তর এ বিষয়ে কার্যকর
ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই রিট
দায়ের করা হয়।
এদিকে
গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দেশের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত
এবং জবাবদিহিতা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’
প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালার মাধ্যমেও
ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ
থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় স্পষ্টভাবে
নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আওয়াজ ডটকম ডটবিডি, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মন্তব্য করুন