জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও কমিউনিটি উন্নয়নে
অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর এশিয়া অঞ্চলের
চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ আহমেদ ফাহমি।
বিশ্বের ৫৬টি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের ৯৭৭ জন
আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই হয়ে পাঁচটি অঞ্চলের ২০ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন
হয়েছেন ফাহমি। দুই ধাপে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এতে
৫৭ জন আন্তর্জাতিক বিচারক অংশ নেন। তারা উদ্যোগগুলোর প্রভাব, টেকসই দিক ও সামাজিক গুরুত্ব
বিবেচনা করেন। এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আহমেদ ফাহমি ‘গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর
নির্বাহী পরিচালক। তিনি ‘প্রজেক্ট অক্সিজেন’ নামে একটি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী
উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা করা এবং
জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।
প্রজেক্ট অক্সিজেনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত দেশের
উপকূল ও জলবায়ু-আক্রান্ত এলাকায় এক লাখ ৫৩ হাজার ৬০০টির বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।
এ উদ্যোগে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে। তাদের জীবিকা উন্নয়ন, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ
মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততার মতো সমস্যায় যেসব মানুষ নিয়মিত
ক্ষতিগ্রস্ত হন, এই প্রকল্প তাদের
জন্য বিশেষভাবে কাজ করছে।
এই প্রকল্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ
স্বেচ্ছাসেবীরা যুক্ত রয়েছেন। তারা পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের
সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। এর ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি ও
সংকট মোকাবিলার শক্তি বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তরুণরা এখন আরও
কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস তরুণ সমাজকর্মী, পরিবেশকর্মী, উদ্ভাবক ও স্বাস্থ্যখাতের
নেতাদের সম্মান জানায়। যারা নিজ নিজ এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়াই এই
পুরস্কারের মূল লক্ষ্য। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই পুরস্কার তরুণদের
আন্তর্জাতিক পরিচিতি, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও
আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
চূড়ান্ত তালিকাভুক্তদের
অভিনন্দন জানিয়ে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, ‘তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। দারিদ্র্য
দূর করা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত
করা, শিক্ষা ও মানবিক
উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে
বিশ্বমঞ্চে তরুণদের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে কমনওয়েলথ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আগামী ১১ মার্চ ২০২৬ কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রধান
কার্যালয় লন্ডনের মার্লবোরো হাউসে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। কমনওয়েলথ ডে উদ্যাপনের
অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানটি ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সব চূড়ান্ত প্রতিযোগী পাবেন এক হাজার পাউন্ড
অনুদান, একটি ট্রফি ও সনদ।
পাঁচটি অঞ্চলের বিজয়ীরা পাবেন আরও দুই হাজার পাউন্ড। এছাড়া একজনকে ‘কমনওয়েলথ
ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। তিনি মোট পাঁচ হাজার পাউন্ড
পুরস্কার পাবেন।
মন্তব্য করুন