চলচ্চিত্র
অঙ্গন ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে
পরিচিত মুখ মোহাম্মদ তারিকুল
ইসলাম ভূঁইয়া, যিনি সবার কাছে
পরিচিত সায়মন তারিক নামে। একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, আবৃত্তিকার, অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক—দীর্ঘ সময় ধরে তিনি
সক্রিয় রয়েছেন সংস্কৃতি ও রাজনীতির অঙ্গনে।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র
পরিচালক সমিতি–এর নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ
(ট্রেজারার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি
তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন ফোরাম–এর যুগ্ম সচিব
এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটি–এর সভাপতি। রাজনৈতিকভাবে
তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)–এর কেন্দ্রীয় কমিটির
সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। শৈশব থেকেই সংস্কৃতিচর্চা
ভৈরব
তার আদি নিবাস। স্কুলজীবন
থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা ছিল
তার। নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা
করেন “ভৈরব থিয়েটার” ও
“ভৈরব আবৃত্তি পরিষদ”। আবৃত্তি ও
অভিনয়ে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন “কচিকণ্ঠ স্বর্ণপদক” এবং ভৈরবে একজন
সম্ভাবনাময় নাট্যশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান।
টেলিভিশনে
তার আত্মপ্রকাশ ঘটে বদরুন্নেছা আব্দুল্লাহ
প্রযোজিত নাটক “ফেরারী সূর্য”-এর মাধ্যমে। এই
নাটক দিয়েই ‘সায়মন তারিক’ নামে তার যাত্রা
শুরু। ছাত্র রাজনীতি থেকে চলচ্চিত্রে
শিক্ষা
জীবনে ভৈরব হাজী আসমত
কলেজে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে তিতুমীর
কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সহ-সম্পাদক পদে
নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই
জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি।
চলচ্চিত্রে
তার হাতেখড়ি আহমেদ সাত্তারের মাধ্যমে এবং প্রকাশ্যে কাজের
সুযোগ পান সোহানুর রহমান
সোহানের সঙ্গে। দীর্ঘদিন সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর
২০০৯ সালে লন্ডনপ্রবাসী ইলিয়াস
জাবেদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান “রাজ ফিল্মস ইন্টারন্যাশনাল”
ব্যানারে নির্মাণ করেন তার প্রথম
চলচ্চিত্র “এ চোখে শুধু
তুমি”। প্রতিকূলতার মাঝেও
পথচলা
গত ১৭ বছর রাজনৈতিক
ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় থেকেছেন সায়মন তারিক। বিভিন্ন সময় মামলা, হামলা
ও সাংগঠনিক জটিলতার মুখোমুখি হলেও তিনি পিছু
হটেননি। এমনকি এক পর্যায়ে পরিচালক
সমিতির সদস্যপদ সাত মাস স্থগিত
থাকলেও তিনি সংগঠনের কর্মকাণ্ডে
যুক্ত ছিলেন এবং ২০২০ সালে
নির্বাচিত হন কোষাধ্যক্ষ পদে।
জুলাই
আন্দোলনেও তার সক্রিয় ভূমিকা
ছিল বলে সহকর্মীরা জানান।
আন্দোলনের সময় তার পায়ে
পুলিশের স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে, যার
চিহ্ন এখনো বহন করছেন
তিনি।প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন
চলচ্চিত্র
অঙ্গনের সহকর্মীরা মনে করেন, সায়মন
তারিক একজন পরিশ্রমী ও
আপসহীন নির্মাতা। তারা আশা করছেন,
বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র ও
সংস্কৃতি অঙ্গনে গঠিত বিভিন্ন কমিটিতে
তার অভিজ্ঞতা ও অবদান যথাযথভাবে
মূল্যায়িত হবে।
চলচ্চিত্র,
সংস্কৃতি ও রাজপথ—এই
তিন অঙ্গনেই নিজের অবস্থান তৈরি করা সায়মন
তারিক এখনো কাজ করে
যেতে চান দেশের সাংস্কৃতিক
অগ্রযাত্রায়।
আওয়াজ ডটকম ডটবিডি,০৫ মার্চ ২০২৬
মন্তব্য করুন